১৯৬৯ সালে জেঃ আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়। সে সময় খুলনায় সুন্দরবন আদর্শ কলেজের যাত্রা শুরু। ভাষা সৈনিক বেগম মাজেদ আলী বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন, পদার্থ বিজ্ঞানের খালেদ রশিদ উপাধাক্ষ হিসেবে, নজরুল গবেষক নাসির হায়দার খণ্ডকালীন শিক্ষক, বাংলা বিভাগে অচিন্ত্য কুমার ভৌমিক ও সুশান্ত সরকার যোগদান করায় এ প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ হয়। ৭১ এর আগস্ট মাসে উপাধ্যাক্ষ খালেদ রশিদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। ডুমুরিয়া সম্মুুখ সমর যুদ্ধে তিনি শহিদ হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, ইস্কান্দার কবির বাচ্চু, মোঃ নিজাম উর রহমান লালু ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রাখেন।
১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। ৮২-৯০ ছাত্রসমাজ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে সাড়া দিয়ে নগরীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নেয়। এ সময় ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্তরা হচ্ছেন ছাত্র সংসদের ভিপি মোঃ আজিজুল ইসলাম, এস এম আমিনুর রহমান, মোঃ আইয়ুব আলী শেখ, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাহিদ আহমেদ কামাল নেওয়াজ, এস এম মোর্তজা রশিদী দারা, মোঃ তরিকুল ইসলাম জহির, হুমায়ুন কবির ববি, সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোঃ শেখ আব্দুল হালিম, মোল্লা মারুফ রশিদ, মোঃ নাজমুল হক মুকুল, শেখ সোহেল মাহমুদ, শেখ ফারুক হাসান হীটলু, জিয়াউল ইসলাম মন্টু, মোঃ নাজমুল হক, শেখ মোঃ দৌলত আনা, কুদরুতে আমির এজাজ খান, চৌধুরি হাসানুর রহমান মিরাজ, মুশফিকুর রহমান কনক, নুর খান লিটন, জুবায়ের আহমেদ খান জবা, শমসের আলী মিন্টু। এরশাদ সরকারের পতনের পর সকল ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা ছিল না। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচন, গুম, অর্থ পাচার, ভিন্ন মতালম্বীদের দমন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের কারণে এখানকার ছাত্র সমাজ প্রতিরোধ মুখর হয়ে ওঠে। তারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে শিববাড়ী মোড়, সাত রাস্তা, জিরোপয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সাচিবুনিয়া মোড় এলাকার কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ায় ছাত্রলীগ হুমকি ধমকি দিতে থাকে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালায়। ১৫ জুলাই পর এ প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনকারী ৭ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। তার মধ্যে দু’জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। থানা ছাত্রদের কোর্টে চালান করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরতদের সহযোগিতায় তারা জামিন পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শহিদুল আলম জিহাদ ও নাইমুল ইসলাম নীল। সরকারি নির্দেশে মহাবিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর ছাত্ররা সতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। শিক্ষকদের কয়েকজন অর্থ, পানি, খাবার ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন ও সরকার পতনের আন্দোলনে সতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন অংশ নেয়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জুলাই আগস্টে বি এল কলেজের শিক্ষকতা করতেন। পট পরিবর্তনের পর তিনি এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেছি। তিনি বলেন স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। যার জন্য আমরা গর্বিত। প্রানিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক কেএম জুবায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন এই আন্দোলনে ছাত্রদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতে পেরে গর্বিত।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন :- শহীদুল আলম জিহাদ, খালিদ, নাঈম ইসলাম নীল, মোঃ রোহান রহমান, তীর্থ অধিকারী সন্তুু, আল সায়েম রওফাত, আবু নাঈম, নাঈম হাওলাদার, এস এম নয়ন হোসেন, বুখারী শিকদার, আহনাফ আবসার, মোঃ রয়েস, মোঃ নাফি, সাদিকুর রহমান ইমন, শাহরিয়ার রাকিব, মোঃ শিহাব, আহানাফ তাহমিদ ফাহিম, মোঃ মেহেদী হাসান, তন্ময় শেখ, আহমেদ হৃদয়, আরাফাত, ইসরাত হোসেন, মোঃ জিহাদ আলী গাজী, রিফাত, ফাহিম, রাজ, কাজী সামিয়া, ফারহানা ইতি, জোহরা রাইসা, ইসরাত জাহান এমা, মেহরাব, আবু হুরাইরা, আসিফ শেখ, প্রীতম, পিয়াল, রনি, মেহেদী সাব্বির শেখ, শাহরিয়ার, সালাউদ্দিন বাপ্পী, সজিব গাজী, সাবিত খান, ইসরার হোসেন, শান্ত, আল- আমিন, নাইমুল, মেহেদী, নাহিদ হোসেন, জয় মন্ডল, রিয়াদ, সাদিকুর রহমান, ইমন, অভিরায়, আল মুস্তাফিজ, শাহ আলম, হাসিব, আবু তালেব, আবু সাইদ, উম্মে হাবীবা, ইয়াসিন আরাফাত, পবিত্র হালদার, আখি, দ্যুতি মন্ডল, প্রিয়ন্তি মন্ডল, অন্তিক হালদার, অরবিন্দ সরকার, সাধন পরমানু, মিরাজ হাওলাদার, জুনায়েদ রহমান, ওমর শরীফ, দিগন্ত মল্লিক, ইভান মন্ডল, আলমগীর হোসেন, সৌরভ কান্তি মন্ডল, হৈমন্তি মন্ডল, রেজাউল ইসলাম, আবু হানিফ, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সুমি কবীর, স্বাধীন থান্দার, অমরত্ব রায়, তাপসী কবীর, তরুণ রায়, প্রান্ত শীল, নভোজিৎ মন্ডল, পল্লব মন্ডল, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, অনিমেষ গাইন, মনিরুজ্জামান, মনোজিৎ বাওয়ালি প্রমুখ।
এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা হচ্ছেন, উপাধাক্ষ প্রফেসর মোঃ লিয়াকত হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পেশার ডঃ বিজন বিহারী সানা, ইংরেজির প্রফেসর মোঃ হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর মোঃ শাহাদাত হোসেন শেখ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রফেসর এসএম হোসেন আলী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল কবির, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌস, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামিম আহসান চৌধুরী, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ তুহিন হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অতিস সরকার, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসাঃ হোমায়রাতুল কোবরা, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মাহবুবা জেসমিন, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মোঃ হযরত আলী বাগাতী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ মামুন মিয়া, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক কে এম জুবায়ের ও আইসিটির বিভাগের প্রভাষক এস এম রফিকুল আলম।
খুলনা গেজেট/এনএম

